গেম অব থ্রোনসে স্টার্ক-পুত্র ব্র্যানের থেকে আমরা যে মূল্যবান শিক্ষাটি পাই।

গেম অব থ্রোনসে স্টার্ক-পুত্র ব্র্যানের থেকে আমরা যে মূল্যবান শিক্ষাটি পাই।

পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল টিভি সিরিজ হলো ‘গেম অব থ্রোনস’। বিশেষ করে তরুণ সমাজের অনেকেরই প্রিয় টিভি সিরিজ এটি। ধুন্ধুমার রহস্য, থ্রিলার, একশন, ড্রামা ও স্টোরিটেলিং এই টিভি সিরিজটিকে নিয়ে গেছে এক অন্য রকম চূড়ায়।

আপনি যদি ‘গেম অব থ্রোনস’ দেখে না থাকেন এবং সামনে দেখতে চান, তাহলে অনুগ্রহ করে এই আর্টিকেলটি আর পড়বেন নাহ, কারণ এতে বড় আকারের স্পয়লার দেয়া আছে। অর্থাৎ কাহিনী নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি পড়লে কাহিনীর বড় অংশ আপনার জানা হয়ে যাবে, যাতে মূল সিরিজটি দেখে আপনি হয়তো আনন্দ পাবেন নাহ।

‘গেম অব থ্রোনস’ এ শেষ পর্যন্ত সেভেন কিংডম বা সাত রাজ্যের রাজা হয় স্টার্ক-পুত্র ব্র্যান স্টার্ক। অথচ পুরো সিরিজটিতে তাকে আমরা খুব একটা গুরুত্তপূর্ণ চরিত্রে পাই নি। 

ব্র্যান প্রথম এপিসোডেই অনেক উঁচু জায়গা থেকে নিচে পড়ে যায় এবং মারাত্মকভাবে আহত হয়। জীবিত থাকলেও সে তার পা দুটোর ক্ষমতা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে যায়।

ব্র্যানের বড় ভাই রব স্টার্ক যখন তাদের বাবা নেড স্টার্কের হত্যার প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধে যোগদান দেয়, সেই সময়ে ব্র্যান স্টার্ক ও তার ছোটভাই উইন্টারফেলে ছিলো। এক সময় তারা কয়েকজন সঙ্গিসাথী নিয়ে উইন্টারফেল ত্যাগ করে এবং ভ্রমণ শুরু করে।

এই সময়ে সে ও তার সঙ্গিসাথীরা ছোট বড় নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। এমনও হয়েছে যে ব্র্যান নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে।

একসময় সে তার ছোট্ট দলের একটি অংশ নিয়ে উত্তরের(North) এর বিস্তীর্ণ দেয়ালের অপর পাশে চলে যায়, যেখানে আদিম আমলের মানুষ(ওয়াইল্ডিং), হুয়াট-ওয়াকারদের বসবাস। 

এই যাত্রায় সে তার অনেক সাথীকেই হারিয়ে ফেলে কিন্তু সে টিকে ছিলো। আবারও মনে করিয়ে দেয়া দরকার যে ব্র্যান কিন্তু আগে থেকে পঙ্গু, অর্থাৎ তার চলার জন্য পুরোটা সময় কারো না কারো সাহায্য নিতেই হয়েছে।

গেম অব থ্রোনস এর কাহিনীর পরিক্রমায় শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে ব্র্যান স্টার্ক-ই সেভেন কিংডম বা সাত রাজ্যের(আসলে ছয় রাজ্যের) রাজা হয়। যদিও কাহিনী এভাবে শেষ হওয়া ও আরো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র থাকা সত্ত্বেও ব্র্যান রাজা হওয়া, এই বিষয়টা নিয়ে অনেক ফ্যানের আপত্তি আছে।

Bran-Stark-Practising-Arrow-with-Jon-Snow-Robb-Stark
তীরন্দাজী শিখছে ছোট্ট ব্র্যান স্টার্ক

তাহলে ব্র্যানের থেকে আমরা কি শিক্ষাটি পেলাম?

জীবনের প্রথম দিকেই এবং আপাতত দৃষ্টিতে বড় রকমের প্রতিকূলতার মাঝে থেকে ব্র্যান নিজের কাজ করে গেছে, নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছে। আহামরি বড় কোন রকম কিছু সে বহুদিন পর্যন্ত করতে পারে নাই। 

কিন্তু সে টিকে ছিলো, হাল ছেড়ে দেয় নাই। তার উদ্দেশ্য পূরণের পথে লেগে ছিলো। এবং একসময় সে অত্যন্ত ভালো একটি অবস্থানে নিজেকে খুঁজে পায়। 

বাস্তব জীবনে আশে পাশে, পরিচিতদের মধ্যে এমন কাউকে না কাউকে অবশ্যই দেখবেন যে হয়তো একজনের থেকে মানুষ বেশি কিছু আশা করে নাই, তাকে নিয়ে বেশি চিন্তাও করে নাই। কিন্তু ইনি আস্তে আস্তে অল্প অল্প করে একটা বেশ সুন্দর অবস্থানে নিজের জীবনকে নিয়ে গেছেন, যা এখন অন্যদের কাছে ইর্ষণীয়। ইনি শুধু টিকে ছিলেন(আছেন), কাজ করে গেছেন এবং কোন কিছু আঁকড়ে ধরে ছিলেন। এমন কি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এমন মানুষের সন্ধান পাবেন একটু চিন্তা করলে। 

জীবনের পথে অনেক বাঁধা এবং প্রতিকূলতা আপনাকে পিছনে ঠেলে দিতে চায়বে। অনেক ঘটনাই ঘটবে, যা হবে সম্পূর্ণ অন্যায্য। অনেক ক্ষেত্রে কাছের মানুষজন আপনাকে ধোঁকা দিতে পারে। কিন্তু তাই বলে তো থেমে থাকা চলবে নাহ, তাই না?

আপনাকে নিজের মত করে উঠে দাঁড়াতে হবে, সামনে আগাতে হবে। পিছনের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা ও জ্ঞান লাভ করে ভবিষ্যতে আরো কিভাবে ভালো করা যায়, সেইভাবে চিন্তা করে আগামীর দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সুতরাং হাল ধরে লেগে থাকুন।

Leave a Reply