বিলিয়নেয়ার চার্লি মাঙ্গারের সফলতার একটি নীতি যা হয়তো আপনারও কাজে লাগবে।

বিলিয়নেয়ার চার্লি মাঙ্গারের সফলতার একটি নীতি যা হয়তো আপনারও কাজে লাগবে।

আপনার কাছে হয়তো “চার্লি মাঙ্গার” নামটি অপরিচিত। কিন্তু আমেরিকার বিনিয়োগ জগতে তিনি একজন অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব।

আপনি হয়তো ওয়ারেন বাফেটের নাম শুনে থাকবেন। ওয়ারেন বাফেট বিশ্বের সবচেয়ে ধনীদের একজন। তিনি মূলত শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগের মাধ্যমে তাঁর এই বিশাল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। 

চার্লি মাঙ্গার, ওয়ারেন বাফেটের বিজনেস পার্টনার। তাঁরা একসাথে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান “বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে” চালাচ্ছেন বহুদিন ধরে। 

চার্লি মাঙ্গার নিজেও একজন বিলিয়নেয়ার। তাঁর নানান সময়ের বক্তৃতা থেকে আমরা জীবন ও জগতকে বুঝার ভালো উপকরণ খুঁজে পাই। আজ তাঁরই বলা একটা কথা নিয়ে আলোচনা করবো।

 

চার্লি মাঙ্গার লিখেছেন, “It is remarkable how much long-term advantage people like us have gotten by trying to be consistently not stupid, instead of trying to be very intelligent.”

অর্থাৎ, “এটা সত্যিই আশ্চর্যের বিষয় যে, আমাদের মত লোকেরা কত দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা অর্জন করে নিতে পারে, যখন তারা খুব বুদ্ধিমত্তার জন্য চেষ্টা না করে, শুধুমাত্র ‘বোকামি থেকে বেঁচে থাকা’র চেষ্টা করে যায়”।

তার মানে এই কথাটিকে যদি আরো সহজভাবে বলার চেষ্টা করি তবে তা দাঁড়ায়, “বুদ্ধিমত্তা দিয়ে জয় করার চেয়ে বোকামিগুলো থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করো।” Avoiding Stupidity is Easier than Seeking Brilliance.

এই সংক্রান্ত এবার একটু ভিন্ন আলোচনা করা যাক। 

 

ব্যাপারটা টেনিস খেলা নিয়ে। Simon Ramo নামের একজন বিজ্ঞানী ও পরিসংখ্যানবিদ একটি বই লিখেছিলেন যার নাম “Extraordinary Tennis Ordinary Players”। 

এখানে লেখক টেনিস খেলাকে Winner’s Game এবং Loser’s Game হিসেবে বিভক্ত করে দেখিয়েছেন। 

বাইরে থেকে সব টেনিস খেলাই এক। নিয়ম-কানুন-নীতি এক, খেলার যন্ত্রপাতি এক, কোর্ট এক, ধরণ এক। কিন্তু প্রফেশনাল এবং আনাড়ি খেলোয়াড়দের খেলার মাঝে পার্থক্য অনেক বিস্তর। 

আনাড়ি(অ্যামেচার) খেলোয়াড়রা কখনো কখনো ভেবে থাকেন যে তারা প্রফেশনাল। কিন্তু প্রফেশনাল খেলোয়াড়রা কখনোই নিজেদেরকে আনাড়ি(অ্যামেচার) খেলোয়াড় ভাবেন নাহ। প্রফেশনাল খেলোয়াড়রা জানেন যে তারা আনাড়ি খেলোয়াড়দের খেলা খেলতে এখানে আসেন নি। 

 

পয়েন্ট জেতা নাকি পয়েন্ট হারা

প্রফেশনাল খেলোয়াড়রা খেলা জেতেন পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে। আর অ্যামেচার খেলোয়াড়রা খেলা হারেন পয়েন্ট হারার মাধ্যমে। 

প্রফেশনাল খেলোয়াড়রা যখন টেনিস খেলছেন তারা তা স্কিলের সাথে খেলেন এবং তাদের ভুল খুব কমই হয়। মোটামুটি সবকিছু ঠিকঠাক সুন্দরমতন চলে এবং দুজন খেলোয়াড়ের মাঝে যিনি অপেক্ষাকৃত বেশি পারদর্শী, তিনি আস্তে আস্তে খেলায় জিতে যান পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে।

Charles Ellis এটাকেই বলেছেন Winner’s Game। এখানে উইনারের কার্যকলাপের উপর ভিত্তি করে টেনিস খেলার ফলাফল তৈরি হবে।

আনাড়ি(অ্যামেচার) খেলোয়াড়দের টেনিস খেলাটা পুরোটাই অন্য বিষয় এবং এটাকে বলা হয় Loser’s Game। এই খেলায় যে হারতে যাচ্ছে, তার কার্যকলাপের উপরেই খেলার গতি প্রকৃতি নির্ধারিত হয়।

 

কম হারুন

কারণ অ্যামেচার খেলোয়াড়গণ ভুল বেশি বেশি করেন। পয়েন্ট অহরহ হারান। এদের মাঝে যিনি খুব বেশি খারাপ ভাবে খেলেন, তিনিই দ্রুত পয়েন্ট হারিয়ে নিজে নিজেই হেরে যান। অর্থাৎ তার ব্যর্থতার উপরেই হেরে যাওয়াটা তার ভাগ্যে ঘটছে। 

লেখক আরো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখেছেন যে প্রফেশনাল খেলোয়াড়রা পয়েন্ট অর্জন করে খেলা যেতেন আর অ্যামেচার খেলোয়াড়গণ পয়েন্ট হারিয়ে খেলা হারেন। 

একই খেলা, সেটা টেনিস। কিন্তু প্রফেশনাল খেলোয়াড় এবং অ্যামেচার খেলোয়াড়দের টেনিস খেলা এক জিনিস নয়। 

তাহলে একজন সাধারণ টেনিস প্লেয়ার(আপনি বা আমি) কিভাবে খেলায় জিততে পারি? আমাদের কি সেই সুযোগ আছে?

এখানে তিনি বলছেন –

If you choose to win at tennis – as opposed to having a good time – the strategy for winning is to avoid mistakes. The way to avoid mistakes is to be conservative and keep the ball in play, letting the other fellow have plenty of room in which to blunder his way to defeat, because he, being an amateur, will play a losing game and not know it.

 

অর্থাৎ, আপনি যদি একজন সাধারণ খেলোয়াড় হয়েও টেনিসে জিততে চান, তাহলে ভুল করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। রক্ষণশীল ভাবে খেলুন, বলকে খেলার মাঝে রাখুন এবং অন্য খেলোয়াড়কে খেলার সুযোগ দিন যেখানে তিনি হয়তোবা ভুল করবেন(বা করার সুযোগ পাবেন)। কারণ তিনি অ্যামেচার খেলোয়াড় হিসেবে ভুল করে নিজেই হেরে যাবেন।

আপনি যদি অ্যামেচার হোন তবে ব্রিলিয়ান্ট হবার চেষ্টা না করে, বোকামিগুলো এড়িয়ে চলুন। 

 

আমরা সবাই-ই অ্যামেচার, কিন্তু এটা বিশ্বাস করতে আমাদের ইগোতে আঘাত লাগে।

আমাদের ইগোতে আঘাত লাগে বলেই আমরা স্বীকার করতে চাই না যা আমরা আসলে অ্যামেচার। কারণ তাতে তো কোন কৃতিত্ব নেই।

অথচ আমরা কিন্তু অনেক সময়ই প্রফেশনালদের গেইমই খেলছি। আর এইসব গেইমে জেতার চেয়ে আমাদের চেষ্টা করা উচিত আমরা যেন না হারি। হারা থেকে বেঁচে থাকতে হবে আমাদেরকে।

হয়তো বেশি তাত্ত্বিক আলোচনা করে ফেলেছি। আসুন একটা বাস্তবিক উদাহরণ নিয়ে কথা বলি। 

 

সিগারেট আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নানা রকম মারাত্মক অসুখ হতে পারে এই সিগারেট সেবনের কারণে।

একজন বেশ অনেকদিন ধরে সিগারেট খান। কিন্তু তিনি বুঝলেন যে এভাবে চলতে থাকলে তিনি আর কটা বছর পরে নির্ঘাত মারা পড়বেন। তখন অনেক চিন্তা ভাবনা করে মনে কষ্ট রাখা সত্ত্বেও তিনি ভাবলেন যে সিগারেট ছেড়ে দেয়াটাই তার জন্য ভালো হবে। 

তিনি আগে দিনে ১৫টা সিগারেট খেতেন। আস্তে আস্তে কমিয়ে দিনে ৫টা সিগারেটে নেমে আসলেন। এভাবে আস্তে আস্তে তিনি ২ মাসের মাথায় সিগারেট ছেড়ে দিলেন। এমন না যে সিগারেট ছাড়তে তার কষ্ট হয় নি।  কিন্তু সবদিক বিচার বিবেচনা করেই তিনি এটা করতে পারলেন শেষ পর্যন্ত।

এখানে তিনি ব্রিলিয়ান্ট কিছুই করতে যান নি। কিন্তু একটা নির্ঘাত বড় রকমের ভুল থেকে নিজেকে আস্তে আস্তে ফিরিয়ে নিলেন।

এভাবেই আপাতত দৃষ্টিতে, জীবনের বিভিন্ন বড় ও মাঝারি ভুলগুলো থেকে যদি আমরা বেঁচে চলতে পারি, তাহলে নেগেটিভের খাতাটা অনেকটাই কম হবে আমাদের জীবনে।

চার্লি মাঙ্গার আমাদের তাই-ই শিক্ষা দেন যে, বোকামি-ভুল-স্টুপিডিটি গুলো থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করো।

 

এই লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টে লিখতে পারেন। এবং আমার ওয়েবসাইটের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ে দেখতে পারেন। 

Leave a Reply