৩৩ টি সামাজিক নিয়ম ও ভদ্রতা যা আমাদের অবশ্যই মেনে চলা উচিত।

৩৩ টি সামাজিক নিয়ম ও ভদ্রতা যা আমাদের অবশ্যই মেনে চলা উচিত।

আমরা সামাজিক জীব। অন্যান্য মানুষের সাথে সামাজিক নিয়ম মেনে সহাবস্থানের মাধ্যমেই কেবল একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু কখনো কখনো আমরা ভুলবশত বা না জানার কারণে কিছু ভুল আচরণ করে ফেলি যা আমাদের আশেপাশের অন্য মানুষের জন্য বিড়ম্বনার বা মনঃকষ্টের কারণ হতে পারে।

আপনি যখন এইসকল সামাজিক নিয়ম ও ভদ্রতাগুলো মেনে চলবেন, তখন মানুষের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি পাবে। আপনার দেখানো “কার্টেসি” বা ভদ্রতাটিও তারা মনে রাখবেন। আসুন সামাজিক এই অলিখিত কিছু নিয়ম কানুন সম্পর্কে আজ আমরা জানি।

 

১। মানুষকে প্রশংসা করবেন সবার সামনে। তবে তার সমালোচনা করবেন শুধুমাত্র তার সাথে একান্তে গোপনে, যেন তার সম্মান বজায় থাকে।

২। কারো শারীরিক ওজন নিয়ে মন্তব্য করার কোনই প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র বলুন, “আপনাকে/তোমাকে দারুণ দেখাচ্ছে।” তিনি যদি ওজন কমানোর ব্যাপারে কথা বলতে চান, তিনি নিজে থেকেই বলবেন।

৩। যদি কেউ তার মোবাইল ফোনে কোন ছবি আপনাকে দেখতে দেন, তবে সে ছবিটি দেখা ছাড়া ডানে বা বামে সোয়াইপ করবেন না। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে তিনি পড়তে পারেন।

৪। কেউ যদি আপনাকে বলেন যে উনি ডাক্তারের কাছে এপয়েনমেন্ট নিয়েছেন বা তার ডাক্তারের এপয়েনমেন্ট আছে, তাহলে কখনোই কৌতূহলে জিজ্ঞাসা করবেন না যে কিসের জন্য এপয়েনমেন্ট। তাতে তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারেন। তাদের যদি বলার ইচ্ছা থাকে তাহলে তারা তা আপনাকে এমনিতেই বলবেন।

৫। আপনার ও আপনার বন্ধু/বান্ধবী যদি কোথাও ঘুরতে বা খেতে যান, উনি যদি একবার বিল পরিশোধ করেন, তাহলে আপনি এরপরের বার বিল পরিশোধ করে দিন। এটা সাধারণ ভদ্রতা।

৬। আপনি কোন দরজা দিয়ে বের হবার পরে আপনার পিছনে যিনি আসছেন তার জন্য দরজাটা খোলা ধরে রাখুন, হোক তিনি পুরুষ বা নারী, সিনিয়র বা জুনিয়র। এতে আপনি সম্মানিতই হবেন।

৭। অন্যদের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে শিখুন। ভিন্নমতকে সহ্য করার সহনশীলতা আমাদের সবারই থাকা উচিত। তাছাড়া জীবনে সবার দৃষ্টিভঙ্গিও একরকম হয় নাহ।

৮। পরপর দুইবারের বেশি কাউকে ফোনে কল দেবেন নাহ। দুইবার কল দেয়া সত্ত্বেও তারা ফোন না ধরলে বুঝে নেবেন তারা সত্যিই কোন জরুরী কাজে ব্যস্ত আছেন। তারা যখন কাজ শেষে ফ্রি হবেন, আপনার ফোনে নিজে থেকেই কলব্যাক করবেন।

৯। আপনি হয়তো কারো থেকে টাকা ধার নিয়েছেন। তিনি তা বলার আগেই টাকাটা পরিশোধ করে দিন। বড় পরিমাণ টাকা হলে অল্প অল্প করে টাকা দিতে শুরু করুন। এই ব্যাপারটি একই সাথে আপনার ব্যক্তিত্ব ও ন্যায়নিষ্ঠতার পরিচয় বহন করে। টাকা ছাড়াও যদি অন্য কিছু নিয়ে থাকেন কারো কাছ থেকে, সে বলার আগেই সেটা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করুন। হোক সেটা পেন্সিল, বই বা দামী কিছু।

১০। একজন কর্তাব্যক্তি বা অফিসারকে যতটা শ্রদ্ধা দিয়ে কথা বলবেন, একজন দারোয়ানকেও ততটা সম্মান দিয়ে কথা বলবেন। এতে আপনার পরিবারের বংশপরিচয় প্রকাশ পায়। সম্মানের সাথে কথা বললে সেটা সবাই-ই লক্ষ্য করে।

 

১১। কেউ যখন আপনার সাথে সরাসরি সামনাসামনি কথা বলছেন, তখন নিজের স্মার্টফোনের দিকে চেয়ে থাকবেন নাহ। এটি অসম্মান ও অভদ্রতার লক্ষণ।

১২। কেউ উপদেশ না চাইলে, তাকে নিজে থেকে উপদেশ বা নীতিকথা শোনাতে যাবেন নাহ।

১৩। পুরোনো পরিচিত কারো সাথে অনেকদিন পরে দেখা হলে, তাদেরকে তাদের বয়স বা বেতনের কথা জিজ্ঞাসা করে বিব্রত করবেন নাহ। প্রয়োজন হলে তারা নিজে থেকে বলবেন।

১৪। যদি কারোর কোন বিষয়ে আপনার সম্পৃক্ততা না থাকে, তবে সেই বিষয়ে আগ্রহ দেখানোর বা সেই বিষয়ে জানতে চাওয়াটা আপনার উচিত হবে নাহ। এটা থেকে দূরে থাকবেন।

১৫। পরিচিত হোক, অপরিচিত হোক – কারো সাথে রাস্তায় দেখা হলে সানগ্লাস খুলে কথা বলবেন। কারণ এটা সম্মানের লক্ষণ এবং কথা বলার সময় “আই কন্টাক্ট” রাখা টা ভদ্রতা।

১৬। দরিদ্র পরিবেশের মাঝে নিজের সম্পদের কথা বলবেন নাহ। ঠিক একইভাবে নিঃসন্তান দম্পতির কাছে আপনার ছেলেমেয়েদের ফিরিস্তি/প্রশংসা গাইবেন নাহ।

১৭। কেউ আপনাকে রেস্তোরায় বা হোটেলে ট্রিট দিলে, মেন্যুর দামী দামী ডিসগুলো অর্ডার করে বসবেন নাহ। যিনি ট্রিট দিচ্ছেন/খাওয়াচ্ছেন, তার ব্যাপারটা মাথায় রাখুন।

১৮। মানুষকে এমন এমন প্রশ্ন করবেন নাহ যাতে তিনি বিব্রত হন। “আপনি কি বিবাহিত?”, “আপনার কি বাচ্চা আছে?”, “বাসা কেন কিনেন নি?”- ইত্যাদি প্রশ্নগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো হবে। উনি যদি আপনার সাথে নিজের কোন ব্যাপার শেয়ার করতে চান, তবে নিজে থেকেই তা জানাবেন।

১৯। কেউ কথা বলার সময় তাকে বাঁধা দেবেন না/নিজে কথা বলবেন না। তাদেরকে কথা বলতে ও শেষ করতে সময় দিন।

২০। আপনি যদি কাউকে টিজ বা হালকা খেলাচ্ছলে মসস্করা করে থাকেন এবং তিনি তা পছন্দ না করেন – তবে তা করবেন না। এটা একেবারেই ভালো ব্যাপার নাহ। কারণ কেউ কেউ একটু বেশি অনুভূতিপ্রবণ বা সেন্সিটিভ হয়ে থাকেন।

 

২১। কেউ আপনার জন্য কিছু করলে তাকে অবশ্যই ধন্যবাদ দেবেন, সেটা ছোট বা বড় বিষয় যাই হোক। “থ্যাঙ্ক ইউ” বললে আপনি তো ছোট হবেনই নাহ, বরং যিনি আপনার জন্য কাজটি করে দিলেন তিনি অনেক খুশি হবেন। তবে মন থেকে ধন্যবাদ দেবেন।

২২। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে Please বলুন। এতে আপনার ছোট হওয়ার কিছু নেই।

২৩। কারো সাথে পরিচিত হবার পরে তার নামটি মনে রাখার চেষ্টা করুন। আমরা অনেকেই হুট করে পরিচিত হবার মিনিটখানেকের মাঝে নতুন মানুষটার নাম ভুলে যায়। এটা ভালো ব্যাপার নয়।

২৪। সময় নিয়মানুবর্তী থাকবেন। কাউকে সকাল ১১ টায় দেখা করার কথা বললে, অবশ্যই সকাল ১১টাতেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এটা যেমন আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধা বাড়াবে তেমনি আপনার পরিচিতমহলে নিয়মানুবর্তী হিসেবে আপনার সুনাম বাড়াবে।

২৫। টেবিলের সবাইকে খাবার দেয়া হলে, তবেই খাবার খাওয়া শুরু করবেন। প্লেটে খাবার তুলেই হুট করে খাওয়া শুরু করে দেবেন নাহ।

২৬। খাবারের সময় ভদ্রতা বজায় রেখে খাবেন। আপনার খাওয়া দেখে যেন কেউ মনে মনে আপনাকে পেটুক বা অভদ্র উপাধি না দেয়।

২৭। হুট করে কারো রুমে ঢুকে যাবেন নাহ। তার দরজায় আগে নক করুন। তিনি বের হলে বা অনুমতি দিলে তবেই ঢুকবেন।

২৮। কারো পরিবারের আপনজন কেউ হয়তো মারা গেছেন ক’টা দিন আগে। সেই পরিবারের খোঁজ নিন, তাদের সাথে কথা বলুন। আপনার সমবেদনা জানান।

২৯। লিফট ব্যবহার করার সময়, লিফটে যারা আছেন তাদের নামতে দিন, তারপরে উঠুন। একই ভাবে বাসের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

৩০। আপনার শিশুদেরকে ভাল ব্যবহার শেখান এবং নিজেও ভালো ব্যবহারগুলোর চর্চা করুন। তাহলে শিশুরা আপনাকে দেখেও শিখবে।

 

৩১। পার্টি, গেট-টুগেদার প্রভৃতি সামাজিক অনুষ্ঠানে স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। ধর্ম, রাজনীতি ইত্যাদি স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা না বলাই ভালো। 

৩২। মানুষ মাত্রের-ই ভুল হয়। আপনার যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তবে “সরি” বলতে দ্বিধাবোধ করবেন নাহ। 

৩৩। কেউ ফোনে হয়ত আপনাকে কল দিয়েছেন কিন্তু আপনি ব্যস্ত থাকায় তা ধরতে পারেন নি তখন। সেক্ষেত্রে আপনার কাজ শেষ হলে তাকে কলব্যাক করুন। 

আশা করি, উপরোক্ত অলিখিত সামাজিক নিয়মগুলোর লিস্টটি আপনার ভালো লেগেছে। যেগুলো আমরা মেনে চলি তা তো ঠিক আছে, তবে যা আমরা আজ নতুন করে শিখলাম সেগুলোকেও আমরা গুরুত্ব দেবো এখন থেকে।

Leave a Reply